
Musk Amber - ঘ্রাণরাজ্যের দুই কিংবদন্তির সাক্ষাৎ
রিজিয়ন: Dubai
কস্তুরীর এলিগ্যান্স আর অ্যাম্বারের মোহনীয় সুইটনেসের রসায়ন
কাচ্চির প্রথম লোকমা মুখে নেওয়ার সাথে সাথে একটা ঘ্রাণ মনোযোগ কেড়ে নেয়, মন মাতিয়ে তোলে, খুদা বাড়িয়ে দেয়। তাই না? যদি বলি, একটা আতর কবজিতে এক ফোঁটা দিলেই ঠিক সেই ঘ্রাণটা টের পাবেন। হ্যাঁ, মাস্ক এম্বরের কথাই বলছি। মশলাদার ঝাঁঝ আর মিন্টি ঠান্ডার সাথে একটা মখমলি সুইট আবেশ। ল্যাবডানাম আর ভ্যানিলার উষ্ণ অ্যাম্বার অ্যাকর্ড। তার সাথে মাস্কের রাজকীয় অ্যানিম্যালিক ছোঁয়া। ব্যস, এলিগ্যান্ট এই ঘ্রাণের পুরো অরিজিন এটুকুই। এছাড়া ঘ্রাণ বিবর্তনের রহস্য তো রয়েছেই।
- লং-লাস্টিং
- ১২ ঘণ্টা
- জেন্ডার
- ইউনিসেক্স
- ডেলিভারির সময় টেস্টিং বোতল। পছন্দ না হলে মেইন বোতল না খুলেই রিটার্ন।
- ক্যাশ অন ডেলিভারি
- ফাস্ট সাপোর্ট
যেভাবে ছড়ায়
এই সুগন্ধের পেছনে
সুগন্ধির জগতে সবচেয়ে অদ্ভুত দুটো নাম মাস্ক আর অ্যাম্বার। কারণ এই দুটোর কোনো সরাসরি তুলনা নেই। গোলাপের গন্ধ কেমন, সেটা বলে দেওয়া যায়। চন্দনের গন্ধও চেনা। কিন্তু মাস্ক বা অ্যাম্বার কেমন, এক কথায় কেউ বলতে পারে না।
দুটোর ভেতরেই একসাথে অনেক কিছু থাকে। মিষ্টি, উষ্ণ, রেজিনি, প্রাণীজ, কখনো নোনতা। একেক মুহূর্তে একেকটা সামনে চলে আসে। এই কারণেই জিনিসটা রহস্যের মতো লাগে।
মাস্ক অ্যাম্বারের ঘ্রাণটাও ঠিক তেমনই। ধরতে গেলে ধরা দেয় না, কিন্তু গায়ে লেগে থাকে। রহস্যটা ভাঙতে হলে দুটো নামের গোড়ায় যেতে হবে।
মাস্ক বা কস্তুরি কী
মাস্ক শব্দটা এসেছে হরিণ থেকে। হিমালয়ের মাস্ক ডিয়ারের একটা গ্রন্থি থেকে যে ঘন পদার্থ পাওয়া যেত, শত শত বছর ধরে সেটাই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দামি সুগন্ধি উপাদান।
আসল হরিণের মাস্ক এখন প্রায় বিলুপ্ত। খুঁজলে পাওয়া যায়, তবে দাম আর দুষ্প্রাপ্যতার কারণে সাধারণ সুগন্ধিতে সেটা আর ব্যবহার হয় না। বাজারে যত মাস্ক দেখবেন, তার প্রায় পুরোটাই সিন্থেটিক।
কিন্তু কাজটা বদলায়নি।
মাস্কের নিজের ঘ্রাণ চড়া না। এটা ফুলের মতো সামনে এসে দাঁড়ায় না, মশলার মতো ধাক্কাও দেয় না। বরং নিচ থেকে ধরে রাখে বাকি সব নোটকে। উষ্ণ, ত্বকঘেঁষা, একটা অ্যানিম্যালিক গভীরতা। গায়ে দেওয়ার পর অন্য সব নোট যখন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়, মাস্ক তখনো থেকে যায়।
সবচেয়ে মজার ব্যাপারটা হলো, মাস্ক গায়ে বসে গেলে আর বোঝা যায় না কোনটা আতরের গন্ধ আর কোনটা আপনার নিজের। এই কারণেই মাস্কের ঘ্রাণ একেকজনের গায়ে একেকরকম লাগে।
অ্যাম্বার কী
সুগন্ধির দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে ফেলা শব্দটার নাম অ্যাম্বার। এই নাম নিয়ে বাস্তবের চেয়ে মিথিক্যাল তথ্যই বেশি চালু।
ফসিলাইজড অ্যাম্বার। কনিফার গাছের রেজিন, লক্ষ লক্ষ বছরে জমে পাথর হয়ে যাওয়া। সোনালি আর স্বচ্ছ, গয়নার জন্য। ঘ্রাণ প্রায় নেই।
আম্বারগ্রিস। স্পার্ম হোয়েলের পরিপাকতন্ত্রে তৈরি হয়ে সমুদ্রে ভেসে বেড়ানো এক দুর্লভ পদার্থ। বছরের পর বছর রোদ আর লবণে পাল্টে গিয়ে হয়ে ওঠে মিষ্টি, নোনতা, অ্যানিম্যালিক।
ক্লাসিক ফরাসি অ্যাম্বার অ্যাকর্ড। ল্যাবডানামের গাঢ় অ্যানিম্যালিক রেজিন, ভ্যানিলার ক্রিমি মিষ্টি, আর বেনজয়েনের বালসামিক উষ্ণতা, এই তিন মিলে তৈরি। বিশ শতকের শুরুতে ভ্যানিলিন সহজলভ্য হওয়ার পরেই জিনিসটা দাঁড়ায়।
উডি অ্যাম্বার। আধুনিক সিন্থেটিক অণু। কাঠের ঘ্রাণ, তবে সাধারণ উডি নোটের চেয়ে অনেক নরম আর মখমলি।
এখন আসল কথা। কোনো সুগন্ধির নোটে "অ্যাম্বার" লেখা দেখলে বেশিরভাগ সময় বোঝানো হয় তিন নম্বরটাকে, ওই ক্লাসিক অ্যাকর্ড। ল্যাবডানাম, ভ্যানিলিন আর বেনজয়েন, সাথে ইচ্ছেমতো টঙ্কা বা পেরু বালসামের মতো মিষ্টি রেজিন। গায়ে দিলে যা পাওয়া যায় সেটা ঘন, উষ্ণ, বালসামিক একটা মিষ্টি, আর ল্যাবডানামের চামড়াঘেঁষা অ্যানিম্যালিক আভাস তার নিচে চাপা থাকে।
আর নয়তো বোঝানো হয় সিন্থেটিক অ্যামব্রক্সানকে, যেটা আম্বারগ্রিসের বদলে এসেছে। এর চরিত্র একেবারে উল্টো দিকের। সোনালি, হালকা, প্রায় বাতাসি, সাথে নোনতা মেরিন একটা ছোঁয়া, আর ভেতরে আম্বারগ্রিসের অ্যানিম্যালিক গভীরতার হালকা রেশ।
আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার, ওই অ্যাকর্ডের নামটা এসেছে পাথরের রঙ থেকে, গন্ধ থেকে না। সোনালি অ্যাম্বার দেখে মানুষ কল্পনা করেছিল, এর গন্ধ থাকলে বোধহয় এমন উষ্ণ আর মিষ্টিই হতো। সেই কল্পনাটাই আজ গোটা একটা ঘ্রাণপরিবার।
Musk E Amber
এতক্ষণ যা পড়লেন, সবটাই ইতিহাস আর রসায়ন। কিন্তু Musk E Amber আসলে কেমন, সেটা লেখা পড়ে বোঝা যাবে না। কবজিতে এক ফোঁটা লাগলে এর অনুভূতি, প্রজেকশন আর লংজিভিটি, তিনটাই আপনাকে অভিভূত করবে ইনশাআল্লাহ।
আরোয়ার মাস্ক অ্যাম্বার। এক ফোঁটা দিয়ে দেখুন, বাকিটা নিজেই বুঝে যাবেন।
কীভাবে লাগাবেন
এক ফোঁটাই যথেষ্ট
আতর অনেক স্ট্রং। কব্জিতে এক ফোঁটাই অনেকক্ষণ থাকে।
পালস পয়েন্টে
কব্জি, ঘাড়ের পাশে বা কানের পেছনে লাগান। শরীরের গরমে ঘ্রাণ ছড়াবে।
ঘষবেন না
লাগানোর পর ঘষবেন না। আলতো করে ছুঁয়ে দিন।
ঠান্ডা ও অন্ধকারে রাখুন
রোদ থেকে দূরে রাখলে অনেক বছর ভালো থাকে।
রিভিউ
ক্রেতারা যা বলছেন
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।




